মাতপ্’স

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি

মানবাধিকারের পরিচিতি, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ:

মানবাধিকার কি? মানবাধিকার আইন এবং মানবাধিকারের  উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ।

Journal of the United Nation এ বলা হয়েছে যে “The establishment of human rights provided the foundation upon which rests the political structure of human freedom. The achievement of human freedom generates the will as the capacity for economic and social progress, the attainment of economic and social progress provides the basic for true peace.

অর্থাৎ জাতিসংঘের জার্নাল এ বলা হয়েছে যে

“মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সেই ভিত্তি প্রদান করে যার উপর মানুষের স্বাধীনতার রাজনৈতিক কাঠামো স্থির থাকে। মানুষের স্বাধীনতা অর্জন অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির ক্ষমতা হিসাবে ইচ্ছাশক্তি তৈরি করে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি অর্জনই প্রকৃত শান্তির মূল ভিত্তি প্রদান করে”।

তাহলে জাতিসঙ্ঘের প্রাক্তন মহাসচিব উথান্ট এর বক্তব্য হতে বোঝা যায় যে মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক,সামাজিক ক্ষেত্রে প্রকৃত কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই মানবাধিকারের উদ্ভব।মানবাধিকার কথাটির ব্যবহার আজ থেকে প্রায় দু’শো থেকে তিনশো বছর আগে থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে।যদিও এর প্রকৃত ধারনা খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ২০০০ অব্দ হতে বিরাজ ছিল।১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর এ Universal declaration of Human Rights এর মধ্যমে মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করা হয় যা মানবাধিকারের ইতিহাসে এক বিশেষ মাইলফলক।

প্রকৃতপক্ষে আজ থেকে প্রায় ১৪শ বছর পূর্বে আল্লাহর প্রদত্ত মহান দূত, মহা মানব,অর্থাৎ মুহাম্মদ (সাঃ) কর্তৃক তা প্রণিত হয়েছিল।আজকের এই বিশ্বে মানবাধিকারের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সার্বজনীন। মানবাধিকার কি, তার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ নিয়ে নীচে আলোচনা করা হলঃ

মানবাধিকার কী?

মানবাধিকার বা “Human Rights” কথাটি দুটি শব্দ তথা human ও rights নিয়ে গঠিত হয়েছে।

অর্থাৎ মানবাধিকার শব্দটিকে ভাঙ্গলে দু’টি শব্দ পাওয়া যায় । একটি মানব,অন্যটি অধিকার। মানবাধিকার শব্দের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে মানুষের অধিকারকে। তাহলে মানবাধিকার হলো মানুষ হিসেবে তার মৌলিক অধিকার গুলোকে বুঝায়। এখানে অধিকার বলতে এমন সত্তা বা দাবিকে বুঝায় যা মানুষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত।

এ অধিকারের ব্যাপারে GilChrist বলেন, “Rights arise from the fact that man is a social being”.

FRW Times তার “Human Rights and Duties” Article এ বলেছেন, “Right is moral power of claim to receive something which is due through justice”.

অর্থাৎ গিল খ্রিস্ট বলেন,”মানুষ একটি সামাজিক জীব এই সত্য থেকে অধিকারের উদ্ভব হয়”। FRW Times “মানবাধিকার ও কর্তব্য” প্রবন্ধ এ লেখক, বলেছেন, “ন্যায়বিচারের মাধ্যমে প্রাপ্য কিছু পাওয়ার দাবির নৈতিক শক্তি অধিকার”।

আমরা,গিল খ্রিস্টের এই অধিকারের সংজ্ঞা থেকে মানবাধিকারের সংজ্ঞা পাই।

আমরা মানবাধিকারের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলতে পারি যে, যেসকল মানুষ হিসেবে সকলের জন্য প্রযোজ্য তা হল মানবাধিকার।

সহজ ভাষায় মানবাধিকার হচ্ছে মানুষের সহজাত অধিকার যা যে কোন মানব সন্তান জন্মলাভের সাথে সাথে অর্জন করে। মূলত যে অধিকার মানুষের জীবন ধারনের জন্য,মানুষের যাবতীয় বিকাশের জন্য ও সর্বপরি মানুষের অন্তরনিহিত প্রতিভা বিকাশের জন্য আবশ্যক তাকে সাধারনভাবে মানবাধিকার বলা হয়। জীবনধারণ ও বেঁচে থাকার অধিকার এবং মতামত প্রকাশের অধিকার,অন্ন বস্ত্র ও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার,ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অংশগ্রহণের অধিকার প্রভৃতি ,সামাজিক,

সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারকে মানবাধিকার বলতে পারি।

“মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা, ক্ষমতার বিকাশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপনের জন্য একান্তভাবে প্রয়োজনীয় অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার”।

“সকল দেশের, সকল কালের,সকল মানুষের নূন্যতম যে অধিকারগুচ্ছ সর্বজনীনস্বীকৃতস্বরুপ তারই নাম মানবাধিকার”।

“মানবাধিকার হল সেসব অধিকারের আধুনিক নাম যাকে ঐতিহ্যগতভাবে অধিকার বলা হয় এবং নৈতিক অধিকার যা প্রত্যেক ব্যক্তি প্রতিটি স্থানে ও সার্বক্ষণিকভাবে এই কারণে পেয়ে থাকে, সে অনান্য সকল সৃষ্টির তুলনায় অধিক বোধশক্তি সম্পন্ন এবং নৈতিক গুণাবলীর অধিকারী। ন্যায়বিচার ছাড়া এসব অধিকার হতে মানুষকে দূরে রাখা যাবে না”।

(Protection of Human Rights)

“মানবাধিকার হল সেই অধিকার যা মানুষের সুস্থ্য, সুন্দর ও শান্তিময় জীবন-যাপনের নিশ্চয়তা দেয়”।

The New Encyclopedia Britannica তে বলা হয়েছে যে,

“Rights thought to belong to individual under the natural law as a consequence of his being Human”.

অর্থাৎ নিউ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকাতে বলা হয়েছে,”মানুষ হওয়ার ফলে প্রাকৃতিক আইনের অধীনে ব্যক্তির অন্তর্গত বলে মনে করা অধিকার”

তাহলে আমরা উপরের সংজ্ঞাসমূহ হতে এ কথা নির্ধিধায় বলতে পারি যে, মানুষের যেসকল অধিকার সর্বজনীনভাবে স্বীকৃতিস্বরুপ আর যা যেকোন মানুষের জন্য খর্ব করা হলে পরে তা হবে চরম অন্যায়,সেই অধিকারসমূহ হল মানবাধিকার।

এবার বলি মানবাধিকার কেন এবং কার জন্য ?

উপরে বলেছি মানবাধিকার হলো মানুষের অধিকার। কিন্তু কোন ধরনের মানুষের জন্য।

তার আগে একটা কথা, আইনের দৃষ্টিকোন হতে পাগলকে দেউলিয়া হিসেবে ধরা হয়।

অর্থাৎ পাগল আইনের আওতামুক্ত।

কথায় বলে,”ছাগলে কি-না খায়, আর পাগলে কি-না করে।” আমাদের দেশের সন্ত্রসীদের অবস্থাও ঠিক পাগলের মত। অবশ্য এতে করে পাগলকে অপমান করা হবে। কারণ পাগল নিজের অজান্তে কিছু ভালো কাজও করে থাকে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা করে না এমন কোন অপরাধ নেই।

মানবাধিকার আইনের ইতিবৃত্ত:

বিখ্যাত আইনবিদ Louts Henkin তাঁর ”The International Bill of rights” গ্রন্থের ভূমিকাতে মন্তব্য করেছেন যে, ”Human Rights is the idea of our time” অর্থাৎ মানবাধিকার হলো বর্তমান কালের ধারণা।মানবাধিকার সম্পর্কে পশ্চিমা প্রায় সকল আইনবিদের বিশ্বাসএরকমই। কিন্তু সাধারণভাবে অনুসৃত মানবাধিকার সম্পর্কিত এহেন ধারণা কতটুকু সত্য?

মানবাধিকার কি আসলেই বর্তমান কালের ধারণা?

ম্যাগনাকার্টা, ফরাসী বিপ্লব- এসবের পথ ধরেই কি দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনের যথাযথ বিকাশ হয়?

আন্তর্জাতিক বা সার্বজনীন মানবাধিকার সংক্রান্ত ধারণার ইতিহাসের সূচনা কেবল ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বরে?

এর পূর্বে কি পৃথিবীর মানুষ সার্বজনীন মানবাধিকারের ধারণার সঙ্গে পরিচিতি লাভ করেনি?

সমাজে, রাষ্ট্রে, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এর সফল বাস্তবায়ন প্রত্যক্ষ করেনি?

তাহলে আসুন, আমরা জানার চেষ্টা করি।এখন থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে তমসায় নিমজ্জিত ধরণীতে আল-কুরআনের আলোকবর্তিকা, রহমতের বার্তা নিয়ে যিনি এই নশ্বর ধরাধামে এসে পৃথিবীকে আলোকিত করে গেছেন সেই রাহমাতুল্লিল আলামিন, সাইয়েদুল মুরসালীন, খাতামুন নাবীয়্যীন, মানবমুক্তির দূত, যাঁকে ওসীলা করে সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে সেই মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মময় জীবনের উপর যৎকিঞ্চিৎ আলোচনা করলে এমন সব তথ্য অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে আমাদের সামনে ভেসে উঠবে যাতে সকলেই বলতে বাধ্য হবেন যে, সার্বজনীন বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের ধারণা দিয়েছেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

প্রতিটি পর্যায়ে সকলের জন্য মানবাধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনিই। নিঃসন্দেহে তিনিই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানবদরদী, সার্বজনীন মানবাধিকার ধারণা বাস্তবরূপ পরিগ্রহ করেছিল তাঁর পবিত্র হাতেই।

M.N. Roy বলেছেন, ”Very few Moslems of our time are aware of the great role played by Islam in the play house of history” অর্থাৎ ইতিহাসের রঙ্গশালায় ইসলামের সুমহান অবদান সম্পর্কে আজকের খুব অল্পসংখ্যক মুসলমানই অবগত।

যেখানে অধিকাংশ মুসলমানই বিশ্বসভ্যতায় তাদের ধর্ম ইসলাম এবং ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান অবদান সম্পর্কে ওয়াকেবহাল নয়, সেখানে পশ্চিমা জগতের ধারণা কেমন হবে তা বলাই বাহুল্য।

পশ্চিমা আইনবিদরা হয় ইসলাম ও এর নবী সম্পর্কে অজ্ঞ, না হয় আদর্শিকভাবে তারা ইসলাম বিরোধী। আর এ জন্যই মানবাধিকার আইনকে আধুনিককালের বলে চালিয়ে দিয়ে তারা এক্ষেত্রে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অবদানকে অস্বীকার করতে চাইছেন।

মানবাধিকার আইনের ক্রমবিকাশ :

ম্যাগনাকার্টা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকাল :

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ইসলাম ধর্ম প্রথম স্পষ্ট সুনির্দিষ্ট আকারে সকল মৌলিক অধিকার তথা মানবাধিকার প্রদান করেছে। কিন্তু এ বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ না করে যারা মানবাধিকার আইনকে বর্তমান কালের বলতে চান, তাদের বক্তব্যকে খন্ডন করার জন্য, সত্যের উদঘাটনের জন্য পাশ্চাত্যে মানবাধিকার আইনের উৎপত্তির উপর আলোকপাত করা জরুরি।

পাশ্চাত্য আইনবিদগণ মানবাধিকারকে বর্তমান কালের ধারণা বলে মনে করেন- একথা আমরা ইতোমধ্যেই উল্লেখ করেছি। তাদের বিশ্বাস মতে ১৯৪৫ সালে প্রণীত জাতিসংঘ সনদ হলো প্রথম দলিল যেটা নাকি মানবাধিকারের ধারণাকে আন্তর্জাতিককরণ (Internationalised) করেছে যদিও এই সনদের কোথাও মানবাধিকারসমূহের উল্লেখ মাত্র করা হয়নি। তারপর আসে ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর যে দিনটি বিশ্বমানবাধিকার দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৪৮ সালের এ দিনে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র তৈরি করা হয়। বিশ্বের মানুষ এখন এটিই স্বীকার করে যে,সার্বজনীন মানবাধিকারের ধারণা মূলত এ সময়েরই। তবে এ কথা ঠিক যে, পাশ্চাত্যে সার্বজনীন মানবাধিকারের ধারণার জন্ম ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে নির্ধারণ করা হলেও প্রকৃত অর্থে এর পেছনেও রয়েছে পর্যায়ক্রমিক একটি ইতিহাস। তবে এ ইতিহাস কোনক্রমেই ১২১৫ ঈসায়ী সালের পূর্বের নয়।

ইংল্যান্ডে মানবাধিকারের বিকাশ :

যে ইংরেজ জাতি নিজেদের ‘সভ্য’ বলে দাবি করে থাকে তারা আসলে কতটুকু সভ্য, তাদের তথাকথিত এই ‘সভ্য’ হবার ইতিহাসই ক’দিনের এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পাঠকদের জন্য আমি প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য তুলে ধরছি। ইংল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল রাজতন্ত্র। তখন মানুষের অধিকার বলতে কিছুই ছিল না। পূর্বে ইংল্যান্ডে মনে করা হতো যে, মানুষকে কোন অধিকার দেয়া বা না দেয়া রাজার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা। নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী সেইসব রাজা মানুষকে মানুষ হিসেবে মনে করতো না। রাজাদের নির্মম অত্যাচারে অতিষ্ঠ জনগণ শত শত বছরের করুণ ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে অবশেষে মরিয়া হয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন সময়ে জন্ম নেয় মানুষের অধিকার সংক্রান্ত কিছু বিল।

এ প্রসঙ্গে আমি বলতে চাই : ”The idea of human rights to a great extent evolved as a result of political absolutism since rights of man became a slogan against the injustices and indignities committed by tyrannical or despotic governments” অর্থাৎ ‘‘মানবাধিকার ধারণার অনেকাংশে বিকাশ ঘটে স্বেচ্ছাচারী শাসকের স্বেচ্ছাতন্ত্রের ফল হিসেবে, যখন অত্যাচারী ও স্বেচ্ছাচারী সরকারসমূহের সকল অবিচার ও অমর্যাদাকর ব্যবহারের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার একটি স্লোগানে পরিণত হয়।

” ইংল্যান্ডে মানবাধিকার বিকাশের পথ পরিক্রমার চারটি পর্যায় হল:

(১) ১২১৫ সালের ম্যাগনাকার্টা।

(২) ১৬২৮ সালের পিটিশন অব রাইটস।

(৩) ১৬৮৮ সালের বিল অব রাইটস ।এবং

(৪) ১৭০১ সালের অ্যাক্ট অব সেটেলমেন্ট।

(১)ইংল্যান্ডে মানবাধিকারের বিকাশঃ

ম্যাগনে কার্টা

এই পৃথিবীতে মানবাধিকারের উৎপত্তির ব্যাপারে যে দলীলটির কথা বলা হয় তা হল ম্যাগনে কার্টা এর দলীল। তৎকালীন রাজা জনের অত্যাচার বন্ধ করতে স্টেফানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাজার সাথে ম্যাগনে কার্টা দলীলটির সাক্ষর করেন যেখানে ৬৩টি ধারা উল্লেখ ছিল।প্রকৃতপক্ষে এই চুক্তিটি সাক্ষরিত হয় ব্যারনদের (তথা জমির মালিকদের নিম্নভূক্ত খেতাব) সাথে রাজার যারদ্বারা ব্যারনদের অধিকারের দায়িত্ব রাজাকে নিতে হয়েছিল।

১২১৫ সালের জুন মাসে ইংল্যান্ডের রাজা জন এবং রাষ্ট্রের বিত্তশালীদের মধ্যে স্বাক্ষরিত এ সনদটিকে ”Keystone of English Liberty” অর্থাৎ মানবাধিকারের চাবিকাঠি বলা হয়। ইংরেজ আইনবিদ Loard chathan মন্তব্য করেন, The petition of Right and the Bill of Rights along with the magna carta constitute the Bible of the English constitution. অর্থাৎ পিটিশন অব রাইট, বিল অব রাইট এবং ম্যাগনাকার্টা ইংলিশ সংবিধানের বাইবেল স্বরূপ।

” ইংল্যান্ডে মানবাধিকারের বিকাশ তথা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পিছনে যে দলিলটিকে চিহ্নিত করা হয় তা হল ১২১৫ সালের ম্যাগনাকার্টা। কিন্তু এ ম্যাগনাকার্টার পেছনে রয়েছে শত শত বছরের রক্তাক্ত ইতিহাস।

নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষ এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের নিকট হতে যৎসামান্য অধিকার লাভের পথ খুঁজে পায়। অবশ্য যে ম্যাগনাকার্টাকে ইংল্যান্ডে মানবাধিকার আইনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তা কোন বিচারেই জনগণের সনদ (People’s charter) হিসেবে মর্যাদাপ্রাপ্তির দাবি রাখে না।

প্রথমত, এটি জনগণের সঙ্গে নয়, বরং প্রভাবশালীদের সঙ্গে রাজার একটি চুক্তি ছিল। দ্বিতীয়ত, এর বিধানসমূহ ছিল রাজকীয় অফিসারদের দ্বারা স্বেচ্ছাচারভাবে কর আরোপ এবং সম্প্রতি আটক বা দখলের বিধান রহিত করা, রাজ্যের মধ্যে ব্যবসায়ীদের চলাফেরার স্বাধীনতা প্রদান, জুরি কর্তৃক বিচার প্রভৃতি। সর্বসাধারণের বিষয়টি এখানে বিবেচনায় আনা হয়নি। বলা হয় ”Although initially the objective of the magna carta was to compel the king to rule in a fair manner and to protect the barorns from unfair treatment by the government, subsequently many of the rights and guarantees granted to them were extended to the common people”.

অর্থাৎ ‘‘যদিও প্রথমে ম্যাগনাকার্টার লক্ষ্য ছিল রাজাকে ন্যায়পন্থায় শাসন করতে বাধ্য করানো এবং সরকারের অন্যায় আচরণ থেকে ‘ব্যারন’দের রক্ষা করা। কিন্তু তাদেরকে প্রদত্ত অধিকারসমূহের অনেকগুলোই পরবর্তীতে সাধারণ মানুষদের প্রদান করা হয়।” সুতরাং যে সনদটিকে ইংল্যান্ডের মানবাধিকার আইনের প্রথম মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, তা প্রকৃত অর্থে জনগণের সনদ ছিল না।

২. পিটিশন অব রাইটস :

ব্রিটিশ জনগণের মানবাধিকার ইতিহাসের দ্বিতীয় দলিলটি হল ১৬২৮ সালের পিটিশন অব রাইটস। এই বিলের মাধ্যমে জনগণের কয়েকটি অধিকারকে স্বীকার করা হয়। কিন্তু রাজা কর্তৃক এটি প্রত্যাখ্যাত হতে পারে এ ভয়ে খুব কৌশলে ‘বিল’ আকারে নয়, বরং ‘পিটিশন’ আকারে এটি পেশ করা হয়। যদিও এ দলীলটির বাস্তবে প্রয়োগ ঘটে নাই। এ ধারাটি বাস্তবায়ন না করার দরুন রাজা চার্লসকে ১৬৪৯ সালে প্রাণ দিতে হয়েছিল।

৪টি ধারায় পর্যায়ক্রমে বলা হয়েছে:

০১/পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া কোন ব্যক্তির উপর কর আরোপ করা যাবে না।

০২/কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তিকে জেলে আটক রাখা যাবে না।

০৩/সেনাবাহিনীর কোন দল গৃহকর্তার পূর্ব অনুমতি ছাড়া কারো গৃহে অবস্থান করতে পারবে না, এবং

০৪/ রাজা বা রাণী কর্তৃক আইনে প্রসিডিং এর জন্য কমিশন জারী করা যাবে না।

৩. বিল অব রাইটস :

১৬৮৮,১৬৮৯ সালে বৃটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক পিটিশন অব রাইটস প্রণীত হয়,এ বিলের মাধ্যমে রাজা বা রাণী কর্তৃক স্বেচ্ছাচারীভাবে আদালত গঠন সংক্রান্ত ক্ষমতা হ্রাস করা হয়। এর দ্বারা রাজার নিকট প্রজাদের আবেদন করা, পার্লামেন্টে সদস্যদের কথা বলা এবং বিতর্কে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা স্বীকৃত হয়। এ প্রসংগে ও.হুদ ফিলিপ বলেন, “বিল অব রাইটস হল মানবাধিকারের সর্বপ্রথম ভিত্তি”। পরবর্তীতে ১৭০১ সালে এক্ট অব সেটেলমেন্ট প্রণয়ন করা হয় যার দ্বরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

৪. অ্যাক্ট অব সেটেলমেন্ট :

১৭০১ সালে প্রণীত এ আইনটিতে মূলত বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়।

আমেরিকায় মানবাধিকার আইনের ক্রমবিকাশ :

আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় ১৭৭৬ সালে এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বলা হয়

”All men are created equal with inalienable rights to life, liberty and the pursuit of happiness”

অর্থাৎ জন্মগতভাবে সব মানুষ সমান, আর তাদের রয়েছে জীবন ও স্বাধীনতা এবং সুখ অন্বেষণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। আমেরিকার ইতিহাসে এটিই হল মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রথম উচ্চারণ। তবে আমেরিকার মূল সংবিধানে প্রকৃতপক্ষে বিল অব রাইটস অধিকার সংক্রান্ত বিল ছিল না। পরবর্তীতে ১৭৯১ সালে তাদের সংবিধানের প্রথম দশটি সংশোধনী গৃহীত হয় যেগুলো একত্রে ‘বিল অব রাইটার্স’ নামে পরিচিত। এতে যে সকল অধিকার সংযোজন করা হয়, সেগুলো হচ্ছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের অধিকার অভিযোগ প্রতিকারের জন্য সরকারের নিকট আবেদন করার অধিকার, নিরপেক্ষ জুরির মাধ্যমে অনতিবিলম্বে ও প্রকাশ্যে বিচার লাভের অধিকার। সম্পত্তির অধিকার, আইন উপদেষ্টা নিয়োগের অধিকার।

নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দেয়ার অধিকার, একই অপরাধে দুইবার শাস্তি না পাবার অধিকার, আইনের চোখে সমান অধিকার, দাসপ্রথার বিলুপ্তি। ইংল্যান্ডের পর মানবাধিকার বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে যুক্তরাষ্ট্র। ঔপনিবেশিক শাসনের কব্ল থেকে রক্ষা করার জন্য ১৭৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার মহানায়ক জর্জ ওয়াশিংটন পেনসেলভেনিয়ার ফিলাফিলডেল হতে Declaration of Independence এর ঘোষণা দেন। যেখানে বলা হয়,

“All men are created equal with inalienable rights to life, liberty and the pursuit of happiness”.

এ অধিকারগুলোকে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ ঘোষণায় জনগণের এমন ক্ষমতা ও অধিকারের কথা বলা হয় যে সরকার কোন সময় অন্যায়মূলক কাজ  করলে কিংবা সরকার জনগণের অধিকার খর্ব করলে জনগণ যেকোন সময় সরকারকে উৎখাত করতে পারবে।

ফ্রান্সে মানবাধিকার আইনের ক্রমবিকাশ:

১৭৮৯ সালে French declaration of rights of man and of the citizen অর্থাৎ মানুষ ও নাগরিকদের অধিকার সম্পর্কিত ফ্রান্সের ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হয়।

ব্রিটেন এবং আমেরিকায় ঘোষিত মানবাধিকারের আলোকেই এটি প্রণীত হয়। ১৭৮৯ সালের এই ঘোষণা এবং ১৭৯১ সালের ফ্রান্সের রেনেসাঁ উত্তর প্রথম সংবিধানে যে সকল অধিকার প্রদান করা হয় সেগুলো হলো, ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার, আইনের চোখে সমান অধিকার, চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকারের গ্যারান্টি ইত্যাদি। পাশ্চাত্যের আইন ব্যবস্থার ক্রমবিকাশের ওপর আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, তাদের মানবাধিকারের ইতিহাস বড় জোর ১২১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ইতিহাস এবং এ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা মানুষের অধিকারসমূহকে স্বীকার করেনি।

এ স্বীকৃতি আদায়ের জন্য শত শত বছরব্যাপী রক্ত ঝরাতে হয়েছে।

আর একটি বিষয় লক্ষণীয় যে,মানবাধিকারের সার্বজনীনতায় তারা বিশ্বাস করতেন না, আন্তরিক ও ছিলেন না।

১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর সার্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত পাশ্চাত্যে মানবাধিকার সংক্রান্ত যে সকল দলিল আমরা পাই, সেগুলোর কোনটিই আন্তর্জাতিক তথা সার্বজনীন বা বিশ্বজনীন ছিল না। বলা হয়ে থাকে, The charter of the United Nations Organisation has internationalised the idea of human rights.” অর্থাৎ মানবাধিকারের ধারণাটির আন্তর্জাতিককরণ করেছে, জাতিসংঘ সনদ।” সকলেই এটি স্বীকার করেন যে, জাতিসংঘ সনদ (১৯৪৫)-এর আগে মানবাধিকারের ধারণাটি বিশ্বজনীন ছিল না। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে সার্বজনীন, বিশ্বজনীন মানবাধিকারের ধারণা ইতোপূর্বে আসলেই কি কেউ দেননি, কোন আইন ব্যবস্থা তা কার্যকর করেনি এসব প্রশ্নের উপর আলোকপাত করার আগে আমরা আবার পাশ্চাত্যের মানবাধিকার আইনের উপর নজর দেব।

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারকে অনুসরণ করে ফ্রান্সে ১৭৮৯ সালে বিপ্লব সংঘটিত হয়।

বিপ্লবে তৎকালীন রাজা ষোড়শ লুই ও তার স্ত্রী রাণী মেরিসহ অনেক রাজপ্রসাদের কর্মচারীদের গিলেটিনে হত্যা করা হয়। এরপর বিপ্লবীদের দ্বারা দেশ পরিচালিত হতে থাকে এবং তারা একটি সংবিধান প্রণয়ন করে। তারা মানুষের মৌলিক মানবাধিকারের ব্যাপারে তারা“Declaration of the rights of man and Citizens” নামে একটি দলীল প্রণয়ন করে।এখানে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা,ধর্মীয় অধিকারের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকারের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয় আলোচনা করা হয়। এখানের বলা হয়, “Men are born and remain free and equal in rights”. এখানকার ধারনাসমূহ কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে মানবাধিকারে বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পাশ্চাত্যের মানবাধিকারের স্বরূপ :

আজকের তথাকথিত সভ্যতার ধ্বজাধারী মানবাধিকারের স্বঘোষিত ধারক হিসেবে যারা আত্মপ্রসাদ লাভ করে। আমরা দেখেছি যে, তারা মানবাধিকার সম্বন্ধে বুঝতে শিখেছে মাত্র সেদিন থেকে পাশ্চাত্য মানবাধিকারের বিকাশ পর্বে মানবাধিকারের রূপ কেমন ছিল এর উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা প্রয়োজন। ব্যক্তি মানুষের অধিকার (individual’s rights) এখনও স্বীকৃত হয়নি। ‘বিশেষ কারণে’ কিছু ব্যক্তি সমষ্টির অধিকার (rights of the groups of individuals) সম্বন্ধে পাশ্চাত্য সমাজের কণ্ঠ উচ্চারিত হয়। অবশ্য তাদের এ মাথা ব্যথার কারণ ছিল ভিন দেশে তাদের নিজ সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা। কিন্তু তারাই নিজেদের দেশে অপর সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘুদের উপর অমানবিক নির্যাতন করতো।

নিম্নে এর উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হলো :

(১) ধর্মীয় স্বাধীনতা :

ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতকে গোটা ইউরোপব্যাপী ধর্মীয় হানাহানি বিরাজ করে। এসব ধর্মযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ বিরাজমান দেশসমূহে নিজ ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য প্রভাবশালী দেশগুলো সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। জার্মানিতে রোম ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের ধর্মীয় সমঅধিকার প্রদানের জন্য ১৬৪৮ সালে Peace of Westphalla স্বাক্ষরিত হয় যার মাধ্যমে জার্মানিতে ৩০ বছরের ধর্মীয় হানাহানি শেষ হয়। এ শান্তিচুক্তি সম্পর্কে যদি বলি :

‘The real motive was rather to promote favoured religious creeds than to promote religious freedom for all” অর্থাৎ উক্ত শান্তি চুক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল সকলের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদানের পরিবর্তে পক্ষপাতমূলক ধর্মমত প্রতিষ্ঠা করা।কোন চুক্তির আওতায় কোন রাষ্ট্রের ভূখন্ডের অংশবিশেষ অপর রাষ্ট্রের নিকট হস্তান্তরিত হলে নতুন রাষ্ট্রে তারা যেন ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে তার নিশ্চয়তা বিধান করা হত।

উদাহরণ ১৭১৩ সালের নেদারল্যান্ড চুক্তির মাধ্যমে ফ্রান্স হাডসন উপসাগর এবং আকাভিয়া গ্রেট ব্রিটেনের নিকট হস্তান্তর করে। উক্ত চুক্তির ১৫নং অনুচ্ছেদে বলা হয়, সে এলাকার ক্যাথলিকরা এক বছরের মধ্যে ইচ্ছে করলে ফ্রান্সে চলে আসতে পারবে। আর যারা থেকে যাবে তাদেরকে গ্রেট ব্রিটেনের আইন অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করতে হবে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, এরা সকল ধর্মের অনুসারীদেরকে ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করতো না, কেবল স্বধর্মের কেউ অপর কোন রাষ্ট্রে বৈষম্যের শিকার হলো কিনা তা নিয়ে চিৎকার করতো। এ প্রসঙ্গে বলতে চাই : ”All the attempts to secure religious freedom were almost invariably, efforts by members of one religion or behalf of their co-religionists elsewhere Protestant powers generally tried to secure religious freedoms for Protestants in catholic countries; but not for Muslim, Buddhists or Jews” অর্থাৎ ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার সকল প্রচেষ্টাই ছিল মূলত একই ধর্মের অনুসারীদের হয়ে তাদের সহ অনুসারীদের প্রচেষ্টা। প্রোটেস্ট্যান্টরা সাধারণত চেষ্টা করতো ক্যাথলিক অধ্যুষিত দেশসমূহে প্রোটেস্ট্যান্টদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা। কিন্তু মুসলমান, বৌদ্ধ, ইহুদীদের ব্যাপারে এদের কোন মাথাব্যথা ছিল না।

(২) দাস প্রথার উচ্ছেদ :

পাশ্চাত্য সভ্যতা প্রকৃতপক্ষে মানুষে মানুষে সমতা নীতিতে বিশ্বাস করে না। বর্তমানে মুখে তারা যত সুন্দর বুলি আওড়াক না কেন, আসলে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করা, তাদের প্রতিপক্ষ মানব সন্তানদেরকে নির্মূল করা, দাসত্বের শৃক্মখলে আবদ্ধ করা এদের আজন্ম খায়েশ। পাশ্চাত্য পান্ডিত্যের পুরোধা প্লেটো, এরিস্টটল দাসপ্রথাকে শুধু বৈধতা দান করেই ক্ষান্ত হননি, উপরন্তু মানব সমাজে দাসপ্রথার প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করেছেন। হাজার হাজার বছরব্যাপী সে সমাজে দাসপ্রথা, দাস বাণিজ্য প্রচলিত ছিল। দাস বাণিজ্য (Slave treade) ছিল তাদের একটি লোভনীয়(!) পেশা। নিকট অতীতে ১৮০২ সালে প্রথমে ডেনমার্কে আমরা দাস প্রথা উচ্ছেদের প্রথম পদক্ষেপ লক্ষ্য করি। পরে দাস বাণিজ্যকে রহিত করণার্থে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৮০৭ সালে একটি বিল পাস করে। এ আইনটি কেবল ব্রিটেনের জন্য ছিল। ১৮৩৩ সালে অবশ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত সকল অঞ্চলে অনুরূপ আইন প্রণয়ন করা হয়। নেপোলিয়ন ১৮১৪ সালে ফ্রান্সে দাস বাণিজ্য বন্ধকরণের জন্য আইন পাস করেন, যদিও এ আইনটি পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি। সংবিধানের ১৩শ’ সংশোধনীর মাধ্যমে আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৫ সালে আমেরিকায় দাসপ্রথা রহিত করেন। আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দাসপ্রথা উচ্ছেদের প্রথম পদক্ষেপ হলো ১৮১৫ সালের ভিয়েনা কংগ্রেস যেখানে কেবল নীতিগতভাবে দাসপ্রথা উচ্ছেদের কথা বলা হয়, কিন্তু এ নীতি বাস্তবায়নের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়নি। এক্ষেত্রে একটি মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য : ”The Intentions of the Great five were somewhat less than purely humanitarian; their aims were to reestablish the political balance and destroy the growing economic power of Spain which thrived on slave trade in Latin America! অর্থাৎ বৃহৎ পাঁচটি শক্তির অভিপ্রায় বিশুদ্ধ মানবিকতার চেয়ে অনেকটা কম ছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং ল্যাটিন আমেরিকায় দাস ব্যবসা করে উন্নতি লাভ করা, স্পেনের বর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তিকে ধ্বংস করা।” সুতরাং এটি পরিষ্কার হলো যে, দাসদেরকে ভালবেসে নয়, বরং বৃহৎ শক্তিগুলো রাজনৈতিক স্বার্থে দাসপ্রথা উচ্ছেদের জন্য এগিয়ে আসে।

(৩) যুদ্ধবন্দী এবং যুদ্ধাহতদের প্রতি ব্যবহার :

বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর আগমনের পূর্বে পৃথিবীতে এবং তাঁর আগমনের পরও ইসলাম ভিন্ন অপর কোন ব্যবস্থায় যুদ্ধবন্দীদের প্রতি মানবিক আচরণ করা হয়নি, যুদ্ধাহতদের প্রতি কেউ সহানুভূতি প্রদর্শন করেনি। অবশ্য পাশ্চাত্যের সমাজ ও আইন ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ঊনবিংশ শতকে এবং বিংশ শতকের প্রথম দিকে যুদ্ধবন্দী ও যুদ্ধাহতদের প্রতি সামান্য নজর দেয়া শুরু হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যারা যুদ্ধে আহত হয় তাদের জন্য ১৮৬৪ সালের জেনেভা কনভেনশনের মাধ্যমে কিছু নীতি প্রণয়ন করা হয়। ১৮৬৮ সালের সেইন্ট পিটার্সবার্গ ঘোষণার মাধ্যমে কতিপয় বিস্ফোরক ও দাহ্য বুলেটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। যুদ্ধবন্দী ও যুদ্ধাহতদের স্বার্থে পশ্চিমা বিশ্বে আরও যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলো হলো ১৮৯৯ ও ১৯০৭ সালের হেগ কনভেনশন, ১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট জেনেভায় স্বাক্ষরিত ৪টি কনভেনশন ইত্যাদি।

কিন্তু এতকিছুর পরও বাস্তবে আমরা কি দেখতে পাচ্ছি? সিরিয়া, ইয়েমেন,ইরাক,ইরান,মিশর, ইউক্রেন, ফিলিস্তিন,কাশ্মীরসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধবন্দী আর যুদ্ধাহত মুসলিমদের আর্তচিৎকারে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে। তাছাড়া শুধু মুসলিম বলে নয় সকল যুদ্ধবন্দী আর যুদ্ধাহতদের প্রতিই এরা বড় নিষ্ঠুর। যুদ্ধবন্দীদের গায়ের চর্বি দিয়ে জার্মানিতে সাবান বানানোর লোমহর্ষক কাহিনী কারও অবিদিত নয়। আসলে যুদ্ধবন্দী ও যুদ্ধাহতদের এরা মানুষই মনে করে না।

(৪) সংখ্যালঘুদের অধিকার :

নিজ দেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি যারা সর্বদা অমানবিক আচরণ করত, সেই সকল শক্তিধর রাষ্ট্র তার ধর্ম, ভাষা বা সংস্কৃতির অনুসারী অপর দেশের সংখ্যালঘুদের স্বার্থ উদ্ধারে সবসময় সচেষ্ট থাকতো। যা হোক, এ রকম পক্ষপাতমূলক আচরণের পথপরিক্রমায় ১৯১৯ সালে ভার্সাই-এ অনুষ্ঠিত শান্তি সম্মেলনে প্রথম সংখ্যালঘুদের অধিকারের কথা বলা হয়।

{৫} শ্রমিকদের অধিকার :

পাশ্চাত্য সমাজ ব্যবস্থায় বিশ শতকের প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠিত জাতিপুঞ্জের চুক্তির ২৩নং অনুচ্ছেদে প্রথম শ্রমিকের অধিকারের ব্যাপারে বলা হয়। ১৯১৯ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা গঠিত হয় যার উদ্দেশ্য হলো শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা।

বাংলাদেশে মানবাধিকার:

সমাজে মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকতে একজন মানুষের যেসব অধিকার দরকার, সেগুলো মানবাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়। একটি রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এসবের মধ্য থেকে কিছু অধিকারকে মৌলিক হিসেবে ঘোষণা করে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই মৌলিক অধিকার ভঙ্গ হলে রাষ্ট্র প্রতিকার দিতে বাধ্য থাকে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, মানবাধিকার মানুষের জন্মগত। আর মৌলিক অধিকার হলো আইনগতভাবে স্বীকৃত।

বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার :

প্রতিটি দেশের সংবিধানেই মৌলিক অধিকারের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৭ (ক) অনুচ্ছেদগুলো মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট। তৃতীয় ভাগের শুরুতে অর্থাৎ ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন করা যাবে না। আর যদি করা হয়, তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। সরকার বা মন্ত্রিপরিষদ ইচ্ছা করলেই মৌলিক অধিকার পরিপন্থী আইন তৈরি করে এর ব্যত্যয় ঘটাতে পারবে না।

আইনের দৃষ্টিতে সমতা :

নাগরিকদের কীভাবে দেখা হয়, সে বিষয়ে বলা হয়েছে সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বিদ্যমান আইনে। এই অনুচ্ছেদে বলা আছে, আইনের দৃষ্টিতে প্রতিটি নাগরিক সমান।

অবস্থানগত কারণে বৈষম্য :

ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বাসস্থান বা পেশাগত কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। মৌলিক এ অধিকারের বিষয়ে সংবিধানের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে অধিকার :

২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সরকারি চাকরিতে সবার সমান সুযোগ আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার :

রাষ্ট্রের যেকোনো নাগরিকের আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার আছে উল্লেখ করে সংবিধানের ৩১ ও ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না- যাতে তাঁর জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পদের ক্ষতি হয়।

বিনা বিচারে আটক :

কোনো ব্যক্তিকে আটক করা নিয়ে নির্দেশনা আছে ৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদে। এতে বলা হয়েছে, বিনা কারণে কাউকে আটক করা যাবে না। কোনো কারণে কাউকে আটক করা হলে সেটির কারণ জানিয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। কোনো অবস্থায় তাকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় হাজতে রাখা যাবে না। আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পার্শ্ববর্তী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আটক ব্যক্তিকে হাজির করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

জোরপূর্বক শ্রম :

ফৌজদারি অপরাধের সাজাপ্রাপ্ত আসামি না হলে অথবা জনগণের বৃহৎস্বার্থে আবশ্যক না হলে কাউকে জোর করে কোনো কাজ করানো যাবে না। এ বিষয়টি বলা হয়েছে ৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদে।

বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ :

কেউ কোনো অপরাধ করলে তার বিচার অবশ্যই ওই সময়ে প্রচলিত আইনে করতে হবে বলে ৩৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে। এক অপরাধের জন্য একাধিকবার শাস্তি দেওয়া যাবে না। এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারের অধিকার রয়েছে। কাউকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না এবং নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাবে না।

সমাবেশ, সংঘটন ও চলাফেরার স্বাধীনতা :

জনস্বার্থে আইনের মাধ্যমে আরোপিত যুক্তিসংগত বাধা-নিষেধ ছাড়া দেশের যেকোনো স্থানে অবাধ চলাফেরার, দেশত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশের স্বাধীনতা রয়েছে নাগরিকদের। ৩৬, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বিষয়গুলোর উল্লেখ করা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদগুলোতে জনস্বাস্থ্য ও জনশৃঙ্খলার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে যেকোনো সমাবেশ বা সংগঠনের অধিকার প্রতিটি নাগরিকেরই রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা :

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি নাগরিকের চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা রয়েছে। ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদে এ বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সংবাদপত্রগুলোকেও এ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতা :

যেকোনো নাগরিক আইন অনুযায়ী যেকোনো কাজকে নিজের পেশা হিসেবে বাছাই করতে পারবে বলে ৪০ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা :

প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে বলে ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, কাউকে জবরদস্তি করে কোনো ধর্ম পালনে বা পাঠদানে বাধ্য করা যাবে না।

সম্পত্তির অধিকার :

আইনের মাধ্যমে আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি নাগরিক সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর করতে পারবে বলে ৪২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।

গৃহ ও যোগাযোগের অধিকার :

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি নাগরিকের নিজ গৃহে নিরাপত্তা লাভের অধিকার থাকবে। ৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বিষয়টির উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নাগরিকদের চিঠিপত্র ও যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মানবাধিকারের কতিপয় দিকসমূহ

১. মানবাধিকার মানুষের মর্যাদার স্বীকৃতি দেয় এবং আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য পথ প্রদর্শনের নীতিমালা দেয়।

২. মানুষের যুলুম-অত্যাচার ও শক্তি প্রয়োগের হাত থেকে রক্ষা করে নিরাপত্তা দেয়।

৩. মানবাধিকারের ফলে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব দেয় যা সকল ব্যক্তি ও শাসকগোষ্ঠীর মোকাবিলায় অধিকার বাস্তবায়নের গ্যারান্টি দেয় যা হল বিচার বিভাগ।

এক নজরে বিশ্ব মানবাধিকারের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ:

মানবাধিকারের ধারনা শুরু হয়েছিল খ্রিষ্টীয়পূর্ব ১৫০০ অব্দ হতে। পারতপক্ষে মানবাধিকারের প্রধান ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ৬২২ খ্রিষ্টাব্দ মহানবী (সাঃ) কর্তৃক “মদীনা সনদ” ঘোষণার মধ্য দিয়ে। এরপর ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডে যে ম্যাগনে কার্টা সাক্ষরিত হয় যাকে মানবাধিকারের প্রথম সনদ বলা হয়।এই মানবাধিকারের উৎপত্তি এর ব্যাপারে কিছু উল্লেখযোগ্য দিক নীচে তুলে ধরা হলঃ

জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকার ঘোষণা:

১৯১৪ হতে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত প্রথম বিশ্ব যুদ্ব চলতে থাকে যেখানে প্রায় দেড় কোটি মানুষ নিহত হয়। এরপর ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ব সংঘটিত হয় যেখানে প্রায় ছয় কোটি লোক নিহত হয়।এতে হিটলারের নাৎসি বাহিনী কর্তৃক প্রায় ষাট লক্ষ ইয়াহূদী প্রাণ বিসর্জন দেয়।তখন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সারা বিশ্বের মানুষ নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করল। ২য় বিশ্ব যুদ্ব চলাকালীন সময় থেকে মিত্রশক্তি মানবাধিকারের কথা চিন্তা-ভাবনা শুরু করে।১৯৪১ সালের ১৪ই আগষ্ট আটলান্টিক চার্টার ও ১৯৪২ সালের জানুয়ারিতে জাতিসংঘের গৃহীত ঘোষণায় এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।১৯৪৫ সালে সান-ফ্রান্সিসকোতে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে মানবাধিকারের ব্যাপারে কোন সুস্পষ্ট নীতি-মালা ছিল না যদিও একটি মানবাধিকার কমিশন গঠিত হয়েছিল। ১৯৪৬ সালের জানুয়ারি মাসে সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনে আন্তর্জাতিক অধিকারসমূহের বিল প্রণয়ন করার পরিকল্পণা গ্রহণ করা হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারি হতে এর কাজ শুরু হয়।অতঃপর ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের ৩৮টি দেশের সম্মতিতে সর্বপ্রথম মানবাধিকার সনদ প্রণয়ন করা হয়।এ ঘোষণায় ১৯টি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার এবং ৬ টি অর্থনৈতিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের কথা স্বীকৃত। পরবর্তীতে অনেক দেশ ঔপনিবেশিক শাসনের কবল হতে রক্ষা পায় ১৯৬৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বর সে দেশগুলোর সম্মতিক্রমে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা দেয়া হয় এর ফলশ্রুতিতে ১৯৭৬ সালে জাতিসংঘের ৩৫তম সদস্যের অনুমোদন নিতে বাধ্য করা হয়।পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালের ১৫ই ডিসেম্বর ৫৯ টি দেশের সম্মতিতে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার,মৃত্যুদণ্ডাদেশ বেশ কয়েকটি সনদ যুক্ত করে। এভাবে করে বিভিন্ন সময় মানবাধিকারের ক্রমবিকাশ হতে থাকে এবং তা বর্তমানরুপ ধারন করেছে।

জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র:

সকল মানুষই সম অবিচ্ছেদ্য অধিকার ও মৌল স্বাধিকারসমুহ নিয়ে জম্ম গ্রহণ করে। জাতিসংঘ প্রত্যেক ব্যক্তির মানবাধিকার সমর্থন,এর বিকাশ সাধন ও সংরক্ষণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

যে অধিকারগুলো প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে সুস্পষ্ট ও সহজ ভাষায় তা ব্যক্ত করেছে।এ সব অধিকার আপনারই সম্পদ।এ সব আপনারই অধিকার। এগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হোন। নিজ এবং অন্যের জন্য এগুলোকে উন্নীত ও রক্ষা করতে সাহায্য করুন।

সার্বজনীন ঘোষণাপত্র:

ধারা-১

বন্ধনহীন অবস্থায় এবং সম- মর্যাদা ও অধিকারদি নিয়ে সকল মানুষই জন্মগ্রহণ করে।বুদ্ধি ও বিবেক তাদের অপর্ণ করা হয়েছে, অতএব ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব নিয়ে তাদের একে অন্যের প্রতি আচরণ করা উচিত।

ধারা-২

যে কোন প্রকার পার্থক্য যথা জাতি,গোত্র, বর্ণ,নারী-পুরুষ,ভাষা,ধর্ম, রাজনৈতিক বা অন্য মতবাদ,জাতীয় বা সামাজিক উৎপত্তি, সম্পত্তি, জন্ম বা অন্য মর্যাদা নির্বিশেষে প্রত্যেকেই ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত সকল অধিকার ও স্বাধিকার স্বত্ববান। অধিকন্তু, কোন ব্যক্তি যে দেশ বা অঞ্চলের অধিবাসী, তার স্বাধীন,অধিভুক্ত এলাকা, স্বায়ত্তশাসিত অথবা অন্য যে কোন প্রকার সীমিত সার্বভৌমত্বের মধ্যে থাকুক না কেন, তার রাজনৈতিক, সীমানাগত ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার ভিত্তিতে কোন পার্থক্য করা চলবে না।

ধারা-৩

প্রত্যেকেরই জীবন -ধারণা, স্বাধীনতা ও ব্যাক্তি নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে।

ধারা-৪

কাউকে দাস হিসাবে বা দাসত্ব রাখা চলবে না, সকল প্রকার দাস-প্রথা ও দাস-দাস ব্যবসা নিষিদ্ধ থাকবে।

ধারা-৫

কাউকে নির্যাতন অথবা নিষ্টুর, অমানুষিক অথবা অবমাননাকর আচরণ অথবা শাস্তি ভোগে বাধ্য করা চলবে না।

ধারা-৬

আইনের সমক্ষে প্রত্যেকেরই সর্বত্র ব্যক্তি হিসাবে স্বীকৃতিলাভের অধিকার রয়েছে।

ধারা-৭

আইনের কাছে সকলেরই সমান এবং কোনরূপ বৈষম্য ব্যতিরেকে সকলেরই আইনের দ্বারা সমভাবে রক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। এই ঘোষণাপত্রের লঙ্ঘনজনিত বৈষম্য বা এরূপ বৈষম্যের উস্কানির বিরুদ্ধে সমভাবে রক্ষিত হওয়ার অধিকার সকলেরই আছে।

ধারা-৮

যে কার্যাদির ফলে শাসনতন্ত্র বা আইন কর্তৃক প্রদত্ত মৌল অধিকারসমূহ লঙ্ঘিন হয় সে সবের জন্য উপযুক্ত জাতীয় বিচার আদালতের মারফত কার্যকর প্রতিকার লাভের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে।

ধারা-৯

কাউকে খেয়ালখুশিমত গ্রেফতার, আটক অথবা নির্বাসন করা যাবে না।

ধারা-১০

প্রত্যেকেরই তার অধিকার ও দায়িত্বসমূহ এবং তার বিরুদ্ধে আনীত যে কোন ফৌজদারি অভিযোগ নিরূপণের জন্য পূর্ণ সমতার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার -আদালতে ন্যায্যভাবে ও প্রকাশ্যে শুনানি লাভের অধিকার রয়েছে।

ধারা-১১

ক.কোন দন্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হলে প্রত্যেকেরই আত্মপক্ষ সমর্থনের নিশ্চিয়তা দেয় এমন গণ-আদালত কর্তৃক আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ বলে বিবেচিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।

খ.কাউকেই কোন কাজ বা ত্রুটির জন্য দন্ড যোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা চলবে না, যদি সংঘটনকালে তা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দন্ডযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য না হয়ে থাকে। আবার দন্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনকালে যতটুকু শাস্তি প্রযোজ্য ছিল তার চেয়ে অধিক শাস্তি প্রয়োগ চলবে না।

ধারা-১২

কাউকে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, পরিবার, বসতবাড়ি বা চিঠিপত্রের ব্যাপারে খেয়ালখুশিমত হস্তক্ষেপ অথবা সম্মান ও সুনামের ওপর আত্রুমণ করা চলবে না।

ধারা-১৩

ক.নিজ রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে চলাচল ও বসতি স্থাপনের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে।

খ.প্রত্যেকেরই নিজ দেশসহ যে কোন দেশ ছেড়ে যাওয়ার ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অধিকার রয়েছে।

ধারা-১৪

ক.নির্যাতন এড়ানোর জন্য প্রত্যেকেরই অপর দেশসমূহে আশ্রয় প্রার্থনা ও আশ্রয় লাভ করার অধিকার রয়েছে।

খ.অরাজনৈতিক অপরাধসমূহ অথবা জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ও মূলনীতি বিরোধী কার্যকলাপ থেকে সত্যিকারভাবপ উদ্ভুত নির্যাতনের ক্ষেত্রে এই অধিকার নাও পাওয়া যেতে পারে।

ধারা-১৫

ক.প্রত্যেকেরই একটি জাতীয়তার অধিকার রয়েছে।

খ.কাউকেই যথেচ্ছভাবে তার জাতীয়তা থেকে বঞ্চিত করে অথবা তাকে তার জাতীয়তা পরিবর্তনের অধিকার অস্বীকার করা চলবে না।

ধারা-১৬

ক.পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ ও নারীদের জাতিগত,জাতীয়তা অথবা ধর্মের কারণে কোন সীমাবদ্ধতা ব্যতিরেকে বিবাহ করা ও পরিবার গঠনের অধিকার রয়েছে বিবাহের ব্যাপারে, বিবাহিত অবস্থায় এবং বিবাহ বিচ্ছেদকালে তাদের সম-অধিকার রয়েছে।

খ.কেবল বিবাহ-ইচ্ছুক পাত্র-পাত্রীর অবাধ ও পূর্ণ সম্মানিত দ্বারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে। গ.

পরিবার হচ্ছে সমাজের স্বাভাবিক ও মৌলিক একক গোষ্ঠী, সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক এর সংরক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।

ধারা-১৭

ক.প্রত্যেকেরই একাকী এবং অপরের সহযোগিতায় সম্পত্তির মালিক হওয়ার অধিকার রয়েছে।

খ.কাউকেই তার সম্পত্তি থেকে খেয়াল খুশিমত  বঞ্চিত করা চলবে না।

ধারা-১৮

প্রত্যেকেরই চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতা অধিকার রয়েছে। নিজ ধর্ম অথবা বিশ্বাস পরিবর্তনের স্বাধীনতা এবং একাই অথবা অপরের সহিত যোগসাজশে ও প্রকাশ্যে বা গোপনে নিজ ধর্ম বা বিশ্বাস শিক্ষাদান, প্রচার, উপাসনা ও পালনের মাধ্যমে প্রকাশ করার স্বাধীনতা এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

ধারা-১৯

প্রত্যেকেরই মতামতের ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে, বিনা হস্তক্ষেপে মতামত পোষণ এবং যে কোন উপায় ও রাষ্ট্রেয় সীমানা নির্বিশেষে তথ্য ও মতামত সন্ধান, গ্রহণ ও জ্ঞান করার স্বাধীনতা এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

ধারা-২০

ক.প্রত্যেকেরই শান্তিপূর্থভাবে সম্মিলিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।

খ.কাউকেই কোন সংঘভুক্ত হতে বাধ্য করা যাবে না।

ধারা-২১

ক.প্রত্যেক্ষভাবে অথবা অবাধে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিজ দেশের সরকারে অংশগ্রহণের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে।

খ.প্রত্যেকেরই নিজ দেশের সরকারী চাকুরীতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার রয়েছে।

গ.জনগণের ইচ্ছাই হবে সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি, এই ইচ্ছা সর্বজনীন ও সমান ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নৈমিত্তিকভাবে এবং প্রকৃত নির্বাচন দ্বারা ব্যক্ত হবে, গোপন ব্যালট অথবা অনুরুপ অবাধ ভোটদান পদ্ধতিতে এরূপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ধারা-২২

সমাজের সদস্য হিসাবে প্রত্যেকেরই সামাজিক   নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে। প্রত্যেকেরই প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এবং প্রতিটি রাষ্ট্রের সংগঠন ও সম্পদ অনুসারে তার মর্যাদা ও অবাধে ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহ আদায় করতে পারবে।

ধারা–২৩

ক.প্রত্যেকেরই কাজ করার, অবাধে চাকুরী নির্বাচনের, কাজের জন্য ন্যায্য ও অনুকূল অবস্থা লাভের এবং বেকারত্ব থেকে রক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।

খ.প্রত্যেকেরই কোন বৈষম্য ব্যতিরেকে সমান কাজের জন্য সমান বেতন পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

গ.প্রত্যেক কর্মী তার নিজের ও পরিবারের মানবিক মর্যাদা রক্ষার নিশ্চিতা দিতে সক্ষম এমন ন্যায্য ও অনুকূল পারিশ্রমিক এবং প্রয়োজনবোধ সেই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য সুবিধা লাভের অধিকার।

ঘ.প্রত্যেকেরই নিজ স্বার্থ রক্ষার্থে শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন ও এতে যোগদানের অধিকার রয়েছে।

ধারা-২৪

প্রত্যেকেরই বিশ্রাম ও অবসর বিনোদনের অধিকার রয়েছে। কাজের সময়ের যুক্তিসঙ্গত সীমা ও বেতনসহ নৈমিত্তিক ছুটি এ অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

ধারা-২৫

ক.নিজের ও নিজ পরিবারের স্বাস্থ্য ও কলামের নিমিত্ত পর্যাপ্ত জীবনমানের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে। খাদ্য, বস্তু, বাসস্থান, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবামূলক কার্যাদিও সুযোগ এবং বেকারত্ব, পীড়া,অক্ষমতা,বৈধব্য, বার্ধক্য অথবা অনিবার্য কারণে জীবন যাপন অন্যান্য অপারগতার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। খ.মাতৃত্ব কালে ও শৈশব  অবস্থায় প্রত্যেকের বিশেষ যত্ন ও সহায়তা লাভের অধিকার রয়েছে। জন্ম বৈবাহিক বন্ধনের ফলে বা বৈবাহিক বাইরে হোক, সকল শিশুই অভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ করবে।

ধারা-২৬

ক.প্রত্যেকেরই শিক্ষালাভের অধিকার রয়েছে। অন্তত পক্ষে প্রাথমিক ও মৌলিক পর্যায়ে শিক্ষা অবৈতনিক হবে।প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হবে। কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সাধারণভাবে লক্ষ্য থাকবে এবং উচ্চাতর শিক্ষা মেধার ভিত্তিতে সকলের জন্য সমভাবে উম্মক্ত থাকবে।

খ.ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ও মানবিক ও মৌলিক স্বাধিকার সমূহের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দৃঢ় করার উদ্দেশ্য শিক্ষা পরিচালিত হবে। সমঝোতা, সহিষ্ণুতা ও সকল জাতি,বর্ণ ও ধর্মীয়  গোষ্ঠীর মধ্যে বন্ধুত্ব উন্নয়ন এবং শান্তি রার্থে জাতিসংঘ কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করবে।

গ.যে প্রকার শিক্ষা তাদের সন্তানদের দেওয়া হবে তা পূর্ণ থেকে বেছে নেওয়ার অধিকার পিতামাতার রয়েছে।

ধারা-২৭

ক.প্রত্যেকেরই গোষ্ঠীগত সাংস্কৃতিক জীবনে অবাধে অংশগ্রহণ, শিল্পকলা চর্চা করা এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও এর সুফলসমূহের অংশীদার হওয়ার অধিকার রয়েছে।

খ.প্রত্যেকেরই বিজ্ঞান, সাহিত্য অথবা শিল্পকলা -ভিত্তিক সৃজনশীল  কাজ থেকে উদ্ভুত নৈতিক ও বৈষয়িক স্বার্থসমূহ রক্ষণের অধিকার রয়েছে।

ধারা-২৮

প্রত্যেকেরই এমন একটি সামাজিক ও আন্তর্জাতিক ব্যাবস্থার জন্য স্বত্ব বান যেখানে এই ঘোষণাপত্রে অলিখিত অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহ পূর্ণভাবে আদায় করা যেতে পারে।

ধারা-২৯

ক.প্রত্যেকেরই সমাজের প্রতি কর্তব্যদি রয়েছে কেবল যার অন্তর্গত হয়েছে তার ব্যক্তিত্বের অবাধ ও পূর্ণ বিকাশ সম্ভব।

খ.স্বীয় অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহ প্রয়োগকালে প্রত্যেকেরই শুধু ঐ ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকবে যা কেবল অপরের অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহের যর্থাথ স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধা নিশ্চিত করতে পারে। এরূপ সীমাবদ্ধতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে নৈতিকতা, গণশৃঙ্খলা ও সাধারণ কল্যাণের ন্যায্য প্রয়োজনসমূহ মিটানোর উদ্দেশ্য আইনের দ্বারা নিরূপিত হবে।

গ.এই সকল অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ কালে কোন ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ও মূলনীতি লঙ্ঘন করা চলবে না।

ধারা-৩০

ঘোষণার উল্লিখিত কোন বিষয়কে এরূপভাবে ব্যাখ্যা করা চলবে না  যাতে মনে হয় যে এই ষোষণার অন্তর্ভুক্ত কোন অধিকার বা স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্য কোন রাষ্ট্র দল বা ব্যক্তি বিশেষের আত্মনিয়োগের অধিকার রয়েছে।

উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায় যে, মানুষের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যে মানবাধিকারের কথা বলা হচ্ছে বাস্তবিক অর্থে তা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত। মানবাধিকার সনদ প্রদান করার পর তার প্রতি অনেকের আশা-আকাংখা ছিল। কিন্তু এত কিছু করার পর বর্তমান ফিলিস্তিন,

ইরাক, ইরান,কাশ্মীর,আফগানিস্তান, ইউক্রেন, ইয়েমেন, সিরিয়া সহ আরো অনেক দেশের পরিস্থিতি মানবাধিকার বিকাশের পথে অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে। যদিও এর কিছু সাফল্য রয়েছে।পারতপক্ষে আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর পূর্বে মহানবী (সাঃ) কর্তৃক যে মানবাধিকার ঘোষণা করা হয়েছিল তা সকলের জন্য অনুসরণীয় এবং তাকে আমরা মানবাধিকারের মূল ভিত্তি হিসবে গণ্য করে সামনের দিকে আগাতে থাকলে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে সক্ষম হব।ইন শা আল্লাহ।

লেখক, সংগঠক, গবেষক,সমাজচিন্তক, ফ্রী আইনি পরামর্শ দাতা ও মানবাধিকার কর্মী।

                      এম.এস.খান

কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বর্তমান প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব

মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি (মাতপ্’স) ওয়ার্ল্ড